জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ সময়ঃ ১:৪৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৪৬ অপরাহ্ণ

জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ভাইরাসঘটিত রোগ, যা একবার উপসর্গ প্রকাশ পেলে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। রেবিস ভাইরাসে আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সংস্পর্শে এই রোগ মানবদেহে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। বাংলাদেশে জলাতঙ্কে আক্রান্তদের বড় অংশই কুকুরের কামড়ের শিকার, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

সংক্রমণের পরপরই রোগের লক্ষণ দেখা যায় না। কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে ভাইরাসটি। পরবর্তীতে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে রোগী অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, পানি ভীতি, তীব্র অস্থিরতা, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে। এই পর্যায়ে পৌঁছালে চিকিৎসা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

কুকুর ছাড়াও বিড়াল, শিয়াল, বানর, বেজি ও বাদুড় থেকেও জলাতঙ্ক ছড়াতে পারে। তাই যেকোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে অবহেলা না করে জরুরি চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রথমেই ক্ষতস্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট সাবান ও পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুতে হবে। এরপর অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, গভীর ক্ষত বা রক্তপাত হলে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি ইমিউনোগ্লোবুলিন দিতে হয়। সাধারণত চার ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়, যা নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে নিতে হয়। বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়—এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সুবিধা।

প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পোষা কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত টিকা দেওয়া। একই সঙ্গে রাস্তার কুকুর নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহভাজন প্রাণী নিরাপদভাবে আলাদা করা এবং মানুষকে সচেতন করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বা ভ্রমণকারীদের আগাম টিকা নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ।

সবশেষে বলা যায়, জলাতঙ্ক সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য হলেও অত্যন্ত ভয়ংকর রোগ। তাই প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং অপচিকিৎসা এড়িয়ে চলাই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ালেই জলাতঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

প্রতি /এডি /শাআ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G